দরবারের নাম ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
০১চন্দনাইশ দরবার শরীফ
সিলসিলা-ই-আলীয়া কাদেরীয়া চিশতীয়া — চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ
দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠায় বাবাজান চন্দনাইশী বাবাজান (কঃ) বাবা ভান্ডারী কেবলা (কঃ) থেকে খেলাফত লাভ করে নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে প্রথম কয়েকদিন কারো সাথে মাইজভান্ডারী ত্বরিকা বিষয়ক কিছু প্রকাশ করেননি শুধু নিশ্চুপ ছিলেন। ওনার স্ত্রীও চন্দনাইশী বাবাজান (রঃ) এর কাছ থেকে কোন কিছু জানতে চাননি। কিন্তু বেলায়েতের যে আলোতে চন্দনাইশী বাবাজান (রঃ) আলোকিত সে আলোর বিচ্ছুরন ঘটতে থাকে। স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে বেশ কিছু মানুষ বাবাজানের সাথে দেখা করতে আসে এবং বায়াতের ইচ্ছাও পোষণ করেন। বাবাজান তাদের বায়াত করান।
পরবর্তী জুমাবার তিনি সাতবাড়ীয়া বহরম পাড়া মসজিদের জুমা পড়ানোর উদ্দেশ্যে যান এবং ইমামতি শেষে উপস্থিত এলাকার মুসল্লিদের পরিষ্কার ভাবে জানিয়ে দেন যে, তিনি আর সামনে জুমা পড়ানোর জন্য আসবেন না এবং তাদের আরেকজন ইমাম রাখার ব্যাপারে বলেন। সকলের অনুরোধ শর্তেও তিনি শুধু “না” শব্দ বলেন। সকলে চন্দনাইশী বাবাজান (রঃ) এর কাছে আরজ করেন যে, তারা বাবাজানের সাথে কোন ধরনের বেয়াদবি করেছেন কিনা? চন্দনাইশী বাবাজান (কঃ) তাদের সকলকে অভয় দান পূর্বক বলেন তিনি আর খতীবের দায়িত্ব পালন করতে চান না বরং তিনি স্বীয় বাড়িতে অবস্থান করবেন কোন এক শক্তির নির্দেশে। বাবাজান যে বাবা ভান্ডারী কেবলা কাবা (কঃ) এর হুকুমে চাকরী করতে চান না তা সকলের নিকট আপাতত গোপন রাখেন। সে এলাকার মুসল্লীগনের মধ্যে অনেকে চন্দনাইশী বাবাজানকে আগে থেকে পীরের মতো মান্য করতেন। যাইহোক চন্দনাইশী বাবাজানকে তারা আপ্যায়নের জন্য চেষ্টা করেন। বাবাজান তখন প্রিয় একজন মুসল্লীর ঘরে আহার পর্ব সেরে নিজ এলাকায় তথা গ্রামের দিকে অগ্রসর হন।
পথিমধ্যে স্বীয় পীরভাই হযরত ছৈয়দ হাফেজ মাওলানা ফজলুর রহমান শাহ হাফেজ নগরী মাইজভান্ডারী (রঃ) এর দরবারের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় তাঁর সাথে দেখা করার মনস্থির করে উক্ত দরবারে প্রবেশ করেন। হাফেজ শাহ মাইজভান্ডারী (রঃ) স্বীয় আসনে বসা অবস্থায় ভক্তদের উদ্দেশ্যে বলেন, জোয়ারার মাওলানা সাহেব আসছেন আপ্যায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। হাফেজ শাহ কেবলার (কঃ) ভক্তগণ হুজরা শরীফ থেকে বের হয়ে দেখলেন যে, ঠিকই চন্দনাইশী বাবাজান (রঃ) হাফেজ নগর দরবার শরীফের দিকে আসছেন। তাই তারা তাদের পীরের নির্দেশ মোতাবেক আহারের আয়োজন করতে থাকে। কিন্তু তারা চন্দনাইশী বাবাজান কে নীরব প্রকৃতি স্বভাবের অবস্থায় দেখতে পান। অন্যান্য সময়ের মতো মাইজভান্ডারী ত্বরিকা বিরোধিতার স্বভাবে দেখতে পান না। যাইহোক চন্দনাইশী বাবাজান (কঃ) হাফেজ শাহ মাইজভান্ডারী সাথে হুজুরার আসনে বসে সৌহাদ্দপূর্ণ আলাপে লিপ্ত থাকেন। অবশেষে খাওয়া দাওয়া শেষে চন্দনাইশী বাবাজান(কঃ) নিজ গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন। চন্দনাইশী বাবাজান (রঃ) উক্ত হাফেজ নগর দরবার শরীফ থেকে প্রস্থানের পর উক্ত দরবারের কয়েকজন ভক্ত তাদের পীর সাহেবকে জিজ্ঞাসা করেন যে, চন্দনাইশী বাবাজানকে তাদের অন্য রকম মনে হলো কেন?
হাফেজ শাহ কেবলা (রঃ) মুচকি হেসে বলেন, চন্দনাইশের মাওলানা সাহেবের মাধ্যমে চন্দনাইশে বাবা ভান্ডারী কেবলার (কঃ) আরেকটি স্টেশনের সূচনা হলো। তিনি ওনার সকল আশেকবৃন্দকে চন্দনাইশী মাওলানাকে মান্য করার নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি বলেন যে, চন্দনাইশী মাওলানা এখন আর মাওলানা সাহেব নাই। তিনি এখন তাঁর পীর ভাই ও বাবাভান্ডারী কেবলা কাবার (কঃ) উচ্চ মাপের খলিফা নির্বাচিত হয়েছেন।
যাইহোক, চন্দনাইশী বাবাজান নিজ বাড়িতে এসে অবস্থান করতে থাকেন। প্রতিদিন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কোনো না কোনো পীর অন্বেষী মানুষ চন্দনাইশী বাবাজান কেবলা (কঃ) এর সাক্ষাৎ লাভ ও বায়াত গ্রহণের ইচ্ছায় আসতে থাকে। চন্দনাইশী বাবাজান (রঃ) ও তাদেরকে বায়াত করাতে থাকেন। তিনি নিজ মুর্শিদ গাউছুল আজম হযরত ছৈয়দ মাওলানা গোলামুর রহমান প্রকাশ বাবা ভান্ডারী মাইজভান্ডারী (কঃ) কাছে প্রায় সময় আসা যাওয়া করতে থাকেন। দীর্ঘ আট- দশ বছর এভাবে বাবাভান্ডারী মাইজভান্ডারী (কঃ) এর ছোহবতে আসা যাওয়ার পদ্ধতিতে চন্দনাইশ দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য যে, চন্দনাইশী বাবাজান বাবাভান্ডারীর (কঃ) নিকট হতে বায়াত গ্রহণ ও খেলাফত লাভ করেছিলেন বাবাভান্ডারীর (কঃ) নিকট তাঁর দ্বিতীয় বার গমনের পর। যা বাবাভান্ডারী কেবলাকাবা মাইজভান্ডারীর (কঃ) ইন্তেকালের প্রায় ৮-১০ বছর পূর্বের ঘটনা। প্রথম বার যে তিনি মাইজভান্ডার দরবার শরীফ বাবাভান্ডারী কেবলার (কঃ) ছোহবতে গিয়েছিলেন, তা ছিল তাঁর ছাত্র জীবনকালীন ঘটনা। প্রথম বার যাত্রায় চন্দনাইশী বাবাজানের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃত আল্লাহর অলির নৈকট্য লাভ পূর্বক ইলম জগতে উন্নতি সাধন করা।
দরবারের ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠার বিবরণ
০২চন্দনাইশী বাবাজান কেবলা নিজ দরবারে তরিকায় মাইজভান্ডারী প্রচার ও প্রসার করতে থাকলে ও তিনি প্রত্যেক মাসের মধ্যে মাইজভান্ডার শরীফ নিজ মুর্শিদ বাবাভান্ডারী কেবলা মাইজভান্ডারী (কঃ) ছোহবতে গমন করতেন। মাসের যে কোন একদিন বাবা ভান্ডারী (কঃ) এর সাথে ছোহবতে গেলে হুজরা শরীফ ঢুকতে না ঢুকতে বাবা ভান্ডারী কেবলা কাবা (কঃ) চন্দনাইশী বাবাজানকে জটিল কিছু বিষয়ে সমাধানের জন্য ও ত্বরিকা প্রচারকল্পে সন্দ্বিপ উপজেলা যাওয়ার জন্য হুকুম প্রদান করেন। চন্দনাইশী বাবাজান আর কোন বাক্য আলাপ না করে বাবাভান্ডারী (কঃ) কে তাজিম পূর্বক হুজরা শরীফ থেকে বের হয়ে সোজা নিজ বাড়ি তথা চন্দনাইশ দরবার শরীফ চলে আসেন। নিজের কিছু ভক্ত মুরিদগণকে নিজ দরবারে অবস্থান করতে নির্দেশ দেন এবং বাবাভান্ডারী কেবলার (কঃ) এর হুকুমে সন্দ্বিপ উপজেলা যাওয়ার কথা ব্যক্ত করেন।
ওনার কিছু ভক্ত মুরিদ চন্দনাইশী বাবাজানের (কঃ) সাথে সন্দ্বিপ উপজেলায় যাওয়ার কথা বললেও তিনি কাউকে সাথে না নিয়ে কোন রকম দেরি না করে সন্দ্বিপ উপজেলার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বেশ কয়েকদিন পর চন্দনাইশী বাবাজান সন্দ্বিপ উপজেলা পদার্পন করলে উৎসুক অনেক লোক বাবাজানকে সাদরে গ্রহণ করেন। মনে হলো যেন তারা চন্দনাইশী বাবাজানকে (কঃ) আগে থেকে চিনত। বাবাজান সেখানে বেশ কিছুদিন অবস্থান পূর্বক তরিকায় মাইজভান্ডারী সম্পর্কে জ্ঞান দান করেন। অনেক লোক বাবাজানের হাতে বায়াত গ্রহণ করেন। সে সময় বাবাজানের কাছ থেকে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে কারামত প্রকাশিত হতে দেখা যায়। যা সেখানকার লোকজনই বর্ণনা করেন। মাইজভান্ডারী তরিকার বিরুদ্ধে বাকীরা এমন কিছু জটিল বিষয় নিয়ে বাবাজানকে প্রশ্ন করে আটকাতে চাইলে বাবাজান তার অলৌকিক শক্তির ও তাছাউফের এলেমের মাধ্যমে জটিল বিষয়ের সমাধান প্রদান করেন।
এভাবে চন্দনাইশী বাবাজান সন্দ্বিপ উপজেলা কয়েক সপ্তাহ কাটিয়ে চলে আসতে চাইলে আশেক ভক্তগণ বাবাজানের কদমে পড়ে কান্না করতে থাকেন। কিন্তু বাবাজান তাদের স্বান্তনা প্রদান পূর্বক তাদেরকে বাবাজানকে স্মরণের নির্দেশ প্রদান করেন এবং তরিকা অনুসারে জীবন পরিচালনা করতে বলেন যাতে পবিত্র আত্মার অধিকারী হওয়া যায়। তারপর চন্দনাইশী বাবাজান সন্দ্বিপ উপজেলা ত্যাগ করে মাইজভান্ডার শরীফে বাবাভান্ডারী (কঃ) এর ছোহবতে আসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কয়েক দিন পর মাইজভান্ডার শরীফে এসে বাবাভান্ডারী (কঃ) সামনে তাজীম করার সাথে সাথে বাবাভান্ডারী কেবলা (কঃ) উনাকে বার্মার আকিয়াব শহরে যাওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। চন্দনাইশী বাবাজান (কঃ) পীরের নির্দেশ মোতাবেক পুনরায় চন্দনাইশ নিজ দরবারে এসে কয়েকদিন অবস্থান পূর্বক বার্মার উদ্দেশ্যে রওনার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।
সন্দ্বিপ সফর শেষে চন্দনাইশী বাবাজান (কঃ) নিজ পীরের নির্দেশ মোতাবেক বার্মায় সফরের উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করেন। প্রস্তুতি গ্রহণকালে নিজ দরবারের ভক্ত আশেকগণ উনার জাহেরী অনুপস্থিতিতে স্বীয় হুজুরা শরীফে ছেমা মাহফিল চালু রাখতে বলেন। এবারও বার্মায় সফরে তিনি নিজ ভক্তদের কাউকে সঙ্গী করলেন না। অনেকে বাবাজানের সাথে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেও তিনি সবাইকে স্বীয় দরবারে আসা যাওয়ার ও ত্বরিকতের জিকির আজকার চালিয়ে যেতে বলেন। অবশেষে চন্দনাইশী বাবাজান বার্মার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে সেখানে পৌঁছেন।
বার্মার আকিয়াব শহরে গেলে সেখানকার বেশ ত্বরিকত পিপাসু মানুষ বাবাজানের শরণাপন্ন হয়। বাবাজান তাদেরকে ত্বরিকতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জ্ঞান দান করতে থাকেন। অনেক লোক চন্দনাইশী বাবাজানের কারামত দর্শন পূর্বক বায়াত গ্রহণ করেন। বাবাজান সেখানে অনেক মাস অবস্থান করেন এবং ভক্তদেরকে নিয়ে মাইজভান্ডারী তরিকা অনুসারে ছেমা মাহফিল করতে থাকেন। পরবর্তীতে ভক্তদের শত অনুরোধ সত্তেও চন্দনাইশী বাবাজান (কঃ) নিজ দেশের নিজ গ্রামে চলে আসার জন্য তৈরী হতে থাকেন এবং সেখানকার ভক্তদের হায়াতে জিন্দেগীতে মাইজভান্ডারী তরিকা অনুশীলন করতে নির্দেশ দেন। তিনি শেষ পর্যন্ত চন্দনাইশ দরবার শরীফে ফিরে আসেন।
বার্মা থেকে ফেরার পর চন্দনাইশী বাবাজান মাইজভান্ডারী তরিকার প্রচার-প্রসার কর্মকান্ডে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। প্রতিদিন দূর দূরান্ত থেকে হাজত-মকসুদ পূরণার্থে বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন আসতে থাকে চন্দনাইশী বাবাজান নিজ ভক্ত আশেকদের সময় দিতে থাকেন। দিন দিন চন্দনাইশ দরবার শরীফের জুলুসের ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এদিকে বাবা ভান্ডারী কেবলা কাবার (কঃ) আরেক নির্দেশ চন্দনাইশী বাবাজানের উপর জারি হয়। নির্দেশ ছিল চন্দনাইশী বাবাজান তিন বছর একাধারে প্রতিদিন রাতে বাবা ভান্ডারী কেবলা কাবার (কঃ) সামনে হাজির হওয়া এবং হাজির হয়ে কোন কিছুর আহার ব্যতীত পুনরায় চন্দনাইশে নিজ দরবারে ফিরে আসা এবং দিনের বেলায় স্বীয় আশেক ভক্তদের সময় প্রদান করা। চন্দনাইশী বাবাজান দমার পাত্র ছিলেন না। তিনি বাবা ভান্ডারী কেবলা কাবার (কঃ) নির্দেশ মোতাবেক একাধারে তিন বছর এরূপ হুকুম পালন করতে থাকেন। এরূপ হুকুম পালন করার সময় চন্দনাইশী বাবাজানের (কঃ) বহু কারামত প্রকাশিত হয় যা মাইজভান্ডারী তরিকার অনেক লোকদের বর্ণনায় পাওয়া যায়।
৩ বছরব্যাপী রাত্রিকালে মাইজভান্ডার দরবার শরীফে বাবাভান্ডারীর (কঃ) নিকট হাজিরা প্রদানের অধ্যায় শেষ হলে বাবাভান্ডারী কেবলা কাবা (কঃ) চন্দনাইশী বাবাজানকে স্বীয় দরবার শরীফে মাঘের ২২ তারিখে বিশাল পরিসরে নিজ ভক্তদের নিয়ে ওরশ শরীফ উদযাপনের জন্য ইশারায় নির্দেশ দেন। যদিও এর আগে চন্দনাইশী বাবাজান ওরশ মাহফিলের আয়োজন করত ছোট পরিসরে। যাই হোক হুকুম মোতাবেক ১৯৩৫ সালে চন্দনাইশী বাবাজানের (কঃ) ভক্ত মুরিদগণ বিশাল আয়োজনের মাধ্যমে মাঘের ২২ তারিখে ওরশ শরীফ উদযাপন করেন। চন্দনাইশী বাবাজানের হায়াতি জিন্দেগীর ১৯৮২ সাল পর্যন্ত উক্ত মাঘের ২২ তারিখে ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হতে থাকে। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালের পর থেকে বিশাল আকারের উক্ত ওরশ শরীফ চন্দনাইশী বাবাজানের (কঃ) ওফাতের তারিখে অর্থাৎ ১৬ই ফাল্গুনে অনুষ্ঠিত হতে থাকে যা বর্তমান সময়ে ও চলমান।
উক্ত ওরশ শরীফে দরবারে ভক্ত আশেকগণ উপস্থিত হয়ে মহা সমারোহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে বাবাজানের কলবী ফয়েজী হাসিল করে থাকেন। ২২মাঘ থেকে ১৬ ফাল্গুন ওরশ শরীফের তারিখ পরিবর্তন ছিল চন্দনাইশী বাবাজানের (কঃ) আধ্যাত্মিক হুকুম যা চন্দনাইশী বাবাজানের (কঃ) আওলাদগণ ভক্ত অনুসারীদের নিয়ে সম্পন্ন করে থাকেন। এছাড়াও ২২শে আশ্বিন চন্দনাইশী বাবাজানের (কঃ) খোশরোজ শরীফ সম্পন্ন হয় যা ছিল বাবাজান চন্দনাইশীর (কঃ) আধ্যাত্মিক ইশারা। দরবারের আওলাদ ও আশেকবৃন্দ বাবাজান চন্দনাইশী (কঃ) কর্তৃক প্রবর্তিত ২২ মাঘ তথা গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর (কঃ) ওরশ, ১লা চৈত্র তথা স্বীয় মুর্শিদ গাউছুল আজম বাবা ভান্ডারী কেবলার (কঃ) ওরশ শরীফ স্বল্প পরিসরে সম্পন্ন করেন। উক্ত দরবার শরীফে ১২ই রবিউল আওয়াল ১১রবিউস সানী ও ৬ই রজব যা চন্দনাইশী বাবাজানের (কঃ) জীবদ্দশায় ওরশ পালন করা হতো তার ধারাবাহিকতা এখনো রক্ষা করা হয়।
আউলিয়া / পীর সাহেবের নাম ও জীবনী
০৩পীর সাহেব (রহ:) ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় শিক্ষায় অনুরক্ত ছিলেন। কুরআন ও হাদিসের উপর গভীর জ্ঞান অর্জন করে তিনি সুফি তরিকায় দীক্ষিত হন এবং দীর্ঘ রিয়াজাত ও সাধনার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক উচ্চমার্গে উপনীত হন।
তাঁর হাতে হাজারো মানুষ বায়াত গ্রহণ করেন এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথে পরিচালিত হন। তাঁর সরল জীবনযাপন, গভীর ইলম এবং অসাধারণ আধ্যাত্মিক শক্তি মানুষকে মুগ্ধ করত।
উরস / ওফাতের তারিখ ও তথ্য
০৪🌙 বার্ষিক উরশ শরীফ
প্রতি বছর পীর সাহেব (রহ:)-এর ওফাতের তারিখে বার্ষিক উরশ শরীফ উদযাপিত হয়।
বর্তমান সজ্জাদানশীনের নাম
০৫সজ্জাদানশীনের সাথে সাক্ষাৎ বা পরামর্শের জন্য পূর্বে অনুমতি নিন। নির্ধারিত সময়ে দরবারে উপস্থিত হন।
আওলাদ / উত্তরসূরিদের নাম
০৬* উত্তরসূরিদের সম্পূর্ণ তালিকা যোগ করতে দরবার কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন।
খলিফা / প্রতিনিধিদের তালিকা
০৭| # | নাম | এলাকা / অঞ্চল | দায়িত্বের ধরন | অবস্থা |
|---|---|---|---|---|
| ১ | হযরত মাওলানা [নাম] | চন্দনাইশ সদর | প্রধান খলিফা | সক্রিয় |
| ২ | হযরত [নাম] | সাতকানিয়া | আঞ্চলিক খলিফা | সক্রিয় |
| ৩ | হযরত [নাম] | লোহাগাড়া | আঞ্চলিক খলিফা | সক্রিয় |
| ৪ | হযরত [নাম] | পটিয়া | আঞ্চলিক খলিফা | সক্রিয় |
| ৫ | হযরত [নাম] | বোয়ালখালী | আঞ্চলিক খলিফা | সক্রিয় |
| ... সম্পূর্ণ তালিকা আপডেট হচ্ছে ... | ||||
খাদেমদের নাম ও দায়িত্ব
০৮| নাম | দায়িত্ব | বিবরণ |
|---|---|---|
| মো. [নাম] | প্রধান খাদেম | মাজার শরীফের সার্বিক তত্ত্বাবধান |
| মো. [নাম] | লঙ্গর পরিচালক | নিয়াজ ও লঙ্গর বিতরণ ব্যবস্থাপনা |
| মো. [নাম] | মসজিদ খাদেম | নামাজের ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা |
| মো. [নাম] | দর্শনার্থী সেবা | আগন্তুকদের অভ্যর্থনা ও সহায়তা |
দরবার পরিচালনা কমিটি
০৯| পদবি | নাম | মোবাইল |
|---|---|---|
| সভাপতি | জনাব [নাম] | ০১৮XX-XXXXXX |
| সহ-সভাপতি | জনাব [নাম] | ০১৭XX-XXXXXX |
| সাধারণ সম্পাদক | জনাব [নাম] | ০১৬XX-XXXXXX |
| যুগ্ম-সম্পাদক | জনাব [নাম] | ০১৯XX-XXXXXX |
| কোষাধ্যক্ষ | জনাব [নাম] | ০১৮XX-XXXXXX |
| সদস্য | জনাব [নাম] | ০১৭XX-XXXXXX |
দরবারের আদর্শ ও বাণী
১০🌿 মূল আদর্শ
"আল্লাহকে ভালোবাসো, রাসুলকে অনুসরণ করো, মানুষকে সেবা করো।"
- কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করো।
- গুরুজনকে সম্মান করো, ছোটদের ভালোবাসো।
- জিকির ও ফিকির দ্বারা অন্তরকে পরিশুদ্ধ করো।
- গরিব-দুঃখীদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখো।
- সকল কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করো।
বায়াত নেওয়ার নিয়ম ও তথ্য
১১বায়াত গ্রহণযোগ্যতা
সুস্থ বিবেকসম্পন্ন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নর-নারী বায়াত গ্রহণ করতে পারবেন।
- দরবার শরীফে উপস্থিত হয়ে সজ্জাদানশীনের সাথে সাক্ষাৎ করুন।
- পূর্ণ তওবা করুন এবং গুনাহ থেকে ফিরে আসার সংকল্প করুন।
- কালেমা ও দরুদ পাঠ করুন।
- পীর সাহেবের হাতে হাত দিয়ে বায়াত গ্রহণ করুন।
- বায়াতের পর প্রদত্ত জিকির ও ওজিফা নিয়মিত আদায় করুন।
📞 বায়াতের জন্য পূর্ব নির্ধারিত সময়ে আসুন অথবা ফোনে যোগাযোগ করুন।
মুরিদ সংক্রান্ত নির্দেশনা
১২- পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাসময়ে আদায় করুন।
- নির্ধারিত জিকির প্রতিদিন পাঠ করুন।
- ফজরের পর মুরাকাবায় বসুন।
- প্রতিদিন কুরআন তেলাওয়াত করুন।
- যেকোনো শিরক ও বিদআত থেকে বিরত থাকুন।
- গিবত, মিথ্যা ও হারাম থেকে বাঁচুন।
- পীরের অনুমতি ছাড়া অন্যত্র বায়াত নেবেন না।
- অহংকার ও হিংসা পরিত্যাগ করুন।
দোয়া আবেদন (অনলাইন ফর্ম)
১৩অনলাইনে দোয়া আবেদন করুন
আপনার নাম ও সমস্যার বিবরণ দিন — পীর সাহেব বা তাঁর প্রতিনিধি দোয়া করবেন।
মান্নত সংক্রান্ত নিয়ম
১৪⚠️ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
মান্নত একমাত্র আল্লাহর নামে করুন। মাজারের নামে মান্নত করা ইসলামে বৈধ নয়।
- মান্নত শুধুমাত্র আল্লাহর নামে করুন এবং তা কুরআন-সুন্নাহ সম্মত হতে হবে।
- মান্নত পূরণের জন্য দরবারে এসে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল করতে পারেন।
- লঙ্গরখানায় খাদ্য বিতরণ মান্নত পূরণের অন্যতম পদ্ধতি।
- মান্নতকৃত অর্থ দরবারের নির্ধারিত কোষাগারে জমা দিন।
নিয়াজ ও লঙ্গর ব্যবস্থার তথ্য এবং সময়সূচি
১৫–১৬যেকোনো মুসলিম নর-নারী দরবারের লঙ্গরে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। নিজে নিয়াজ দিতে চাইলে দরবারের কোষাধ্যক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন। নিয়াজের পরিমাণ আপনার সুবিধামতো নির্ধারণ করুন।
🍲 লঙ্গরে সহায়তা করতে চাইলে নগদ অর্থ বা চাল-ডাল দান করতে পারেন।
বার্ষিক উরশের বিস্তারিত
১৭⭐ বার্ষিক উরশ শরীফ ২০২৬
তারিখ ঘোষণা হলে এখানে আপডেট করা হবে। নিয়মিত ভিজিট করুন।
| দিন | সময় | কার্যক্রম |
|---|---|---|
| ১ম দিন | বাদ ফজর | কুরআন খতম ও দোয়া মাহফিল |
| ১ম দিন | বাদ যোহর | ওয়াজ মাহফিল |
| ১ম দিন | বাদ এশা | কাওয়ালি ও মিলাদ |
| ২য় দিন | সকাল–রাত | বিশেষ জিকির, নাত, ওয়াজ মাহফিল |
| শেষ দিন | বাদ ফজর | ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও মোনাজাত |
| শেষ দিন | দুপুর | বিশাল নিয়াজ বিতরণ |
নিয়মিত মাহফিল / অনুষ্ঠান
১৮| মাহফিলের নাম | সময়কাল | বিবরণ |
|---|---|---|
| সাপ্তাহিক জিকির মাহফিল | প্রতি বৃহস্পতিবার রাত | জিকির, নাত ও দরুদ পাঠ |
| মাসিক মিলাদ মাহফিল | মাসের ১২ তারিখ | মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন |
| ফাতেহায়ে ইয়াজদাহম | প্রতি মাসের ১১ তারিখ | গাউসুল আযমের ফাতেহা |
| রমজান মাহফিল | পুরো রমজান মাস | তারাবি, তাহাজ্জুদ, ইতেকাফ |
| মিলাদুন্নবী (সা.) | রবিউল আউয়াল ১২ | বিশেষ মাহফিল ও র্যালি |
বিশেষ নোটিশ ও ঘোষণা
১৯- মার্চ ২০২৬বার্ষিক উরশ শরীফের প্রস্তুতি সভাসকল কমিটি সদস্য ও খলিফাদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।
- রমজান ২০২৬রমজানে বিশেষ তারাবি ও তাহাজ্জুদ মাহফিলপ্রতিদিন এশার পর বিশেষ আমলের ব্যবস্থা থাকবে।
- চলমানদরবার শরীফের সম্প্রসারণ নির্মাণকাজ চলছেদর্শনার্থীরা নির্মাণ এলাকা এড়িয়ে চলুন।
অর্থ সংগ্রহ / দান সংক্রান্ত তথ্য
২০–২৩💛 দানের ফজিলত
"তোমরা যা ভালোবাসো তা থেকে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা পূর্ণ নেকি অর্জন করতে পারবে না।" — (সূরা আলে ইমরান: ৯২)
নম্বরে পাঠান:
০১৮XX-XXXXXXরেফারেন্সে "দরবার দান" লিখুন
নম্বরে পাঠান:
০১৮XX-XXXXXXরেফারেন্সে "দরবার দান" লিখুন
অ্যাকাউন্ট নাম:
চন্দনাইশ দরবার শরীফব্যাংক: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ
অ্যাকাউন্ট নং: XXXX-XXXX-XXXX
দরবারে এসে সরাসরি
কোষাধ্যক্ষের কাছে জমা দিনরসিদ সংগ্রহ করুন।
| খাত | আনুমানিক পরিমাণ | শতাংশ |
|---|---|---|
| লঙ্গর ও খাদ্য সেবা | — | ৪০% |
| মসজিদ ও দরবার রক্ষণাবেক্ষণ | — | ২৫% |
| উরশ ও মাহফিল আয়োজন | — | ২০% |
| শিক্ষা ও সামাজিক সেবা | — | ১০% |
| প্রশাসনিক ব্যয় | — | ৫% |
* বিস্তারিত আর্থিক বিবরণী বার্ষিক সভায় প্রকাশিত হয়।
ছবির গ্যালারি
২৪* প্রকৃত ছবি আপলোড করলে এখানে প্রদর্শিত হবে।
ভিডিও গ্যালারি
২৫অডিও — ওয়াজ / নাত / ক্বাসিদা
২৬- ইয়া গাউস ইয়া মিরান (কাওয়ালি)
- ওয়াজ মাহফিল — সুফিসাধনার মূলকথা
- নাত-এ-রসুল — মদিনার চাঁদ উঠেছে
- জিকির — লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
প্রশ্ন–উত্তর / ফতোয়া
২৭📋 শরিয়তের কোনো বিষয়ে সঠিক উত্তরের জন্য দরবার শরীফের আলেম সাহেবের সাথে যোগাযোগ করুন।
দরবারের নিয়ম–নীতি ও আদব
২৮- পবিত্র অবস্থায় দরবারে প্রবেশ করুন।
- আস্তে কথা বলুন, সম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করুন।
- পুরুষ ও মহিলার আলাদা স্থানে বসুন।
- নামাজের সময় নামাজে শরিক হন।
- বয়স্কদের সম্মান করুন ও সালাম দিন।
- উচ্চস্বরে কথা বা হইচই করবেন না।
- মোবাইল ফোন সাইলেন্ট রাখুন।
- ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকুন।
- শরিয়ত বিরোধী কোনো কাজ করবেন না।
দর্শনার্থীদের করণীয় ও বর্জনীয়
২৯👋 স্বাগতম!
চন্দনাইশ দরবার শরীফে সকল শ্রেণির মুসলমানকে স্বাগত জানানো হয়।
ঠিকানা, ম্যাপ ও যোগাযোগ
৩০–৩৩FAQ — সাধারণ জিজ্ঞাসা
৩৪ইতিহাস ও সনদপত্র
৩৫দরবার শরীফের সিলসিলার সনদপত্র ও অনুমোদনের দলিলপত্র এখানে প্রদর্শিত হবে। মূল সনদ দরবারে সংরক্ষিত আছে।
শাজারা / বংশনামা
৩৬- হযরত মুহাম্মদ (সা.) রাসুলুল্লাহ
- হযরত আলী (রা.) চতুর্থ খলিফা
- হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) গাউসুল আযম
- ... সিলসিলার ধারা ...
- চন্দনাইশ দরবারের প্রতিষ্ঠাতা পীর (রহ.)
- বর্তমান সজ্জাদানশীন দরবার শরীফ
- চন্দনাইশ দরবারের প্রতিষ্ঠাতা পীর (রহ.)
- ... সিলসিলার ধারা ...
- হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) গাউসুল আযম
- হযরত আলী (রা.) চতুর্থ খলিফা
স্বেচ্ছাসেবক তথ্য
৩৭🙋 স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যোগ দিন
দরবার শরীফের সেবায় যারা স্বেচ্ছায় কাজ করতে আগ্রহী, তারা নিবন্ধন করুন।
সোশ্যাল মিডিয়া লিঙ্ক
৩৮📢 সর্বশেষ আপডেট পেতে আমাদের Facebook পেজ ও YouTube চ্যানেল ফলো করুন।
গোপনীয়তা নীতি ও শর্তাবলি
৩৯–৪০- আপনার ব্যক্তিগত তথ্য (নাম, ফোন, ঠিকানা) শুধুমাত্র দরবারের সেবায় ব্যবহার করা হবে।
- আপনার তথ্য তৃতীয় কোনো পক্ষের সাথে শেয়ার করা হবে না।
- দোয়া আবেদন ও যোগাযোগ ফর্মে দেওয়া তথ্য সম্পূর্ণ গোপনীয় থাকবে।
- ওয়েবসাইট ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনার ব্রাউজার ডেটা সংগ্রহ করা হতে পারে (কুকিজ)।
- এই ওয়েবসাইটের সকল কন্টেন্ট চন্দনাইশ দরবার শরীফের মালিকানাধীন।
- দরবার শরীফের নাম ও লোগো অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
- দান ও অনুদান স্বেচ্ছামূলক; ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়।
- ওয়েবসাইটে প্রদত্ত তথ্য আপডেট হতে পারে; সর্বশেষ তথ্যের জন্য সরাসরি যোগাযোগ করুন।
- যেকোনো বিরোধের ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের আদালতের এখতিয়ার প্রযোজ্য হবে।
সর্বশেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২০২৬। যেকোনো প্রশ্নের জন্য যোগাযোগ করুন।